মিরপুরের ওয়াসি টাওয়ারে প্রতারণার ফাঁদ: বিনিয়োগের নামে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে কোটি কোটি টাকা
- Repoter 11
- 26 Jun, 2026
প্রতিষ্ঠানটির আড়ালে আনোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তি গড়ে তুলেছেন এক শক্তিশালী প্রতারক চক্র। 'জাম্বো টিকেট' নামক একটি কোম্পানির মাধ্যমে উচ্চ মুনাফার লোভ দেখিয়ে সাধারণ মানুষ বিশেষ করে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে কোটি কোটি টাকা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, আনোয়ার হোসেন নিজেকে মিরপুরের স্থানীয় পরিচয় দিয়ে বহুরূপী মুখোশে সাধারণ মানুষের সাথে সখ্য গড়ে তোলেন। তিনি কখনো অনলাইন ব্যবসার প্রলোভন, আবার কখনো ভালো কোনো কোম্পানিতে বিনিয়োগের মিথ্যা তথ্য দিয়ে টোপ ফেলেন। তার মূল লক্ষ্য অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা, যাদের জমানো পেনশনের টাকা হাতিয়ে নেওয়াই তার প্রধান উদ্দেশ্য।
যেভাবে কাজ করে প্রতারণার এই চক্র:
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আনোয়ার হোসেন অত্যন্ত সুকৌশলে মানুষকে প্রলুব্ধ করেন। তিনি দাবি করেন, ১০০০ ডলার বিনিয়োগ করলে প্রতিদিন ১৭০০ টাকা (ভ্যাট-ট্যাক্স বাদে ১৫০০ টাকা) মুনাফা পাওয়া যাবে। এই অফার এখানেই শেষ নয়; বিনিয়োগকারীকে ৪০ দিনে মূল টাকা ফেরত দেওয়ার গ্যারান্টিও দেন তিনি। তার এই কথায় বিশ্বাসযোগ্যতা আনতে স্ট্যাম্পে চুক্তিপত্র, এফিডেভিট এবং নিজের ব্যক্তিগত চেক দিয়ে থাকেন তিনি।
আনোয়ারের ভাষ্যমতে, 'জাম্বো টিকেট' কোম্পানি ৪০০ দিন পর্যন্ত টাকা দেবে, যার মধ্যে প্রথম ৪০ দিনে বিনিয়োগকারী তার মূল টাকা তুলে নেবেন এবং পরবর্তী ৩৬০ দিনের মুনাফার অর্ধেক তিনি নিজেই হাতিয়ে নেবেন। এই লোভনীয় অফারের ফাঁদে পড়ে অনেকেই সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। যারা বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করছেন, তাদের প্রতিদিন ২ শতাংশ মুনাফার প্রলোভন দেখানো হচ্ছে।
প্রতারণার স্বরূপ:
শুরুতে কয়েকদিন কিছু পেমেন্ট দিয়ে বিশ্বাস অর্জন করলেও, কিছুদিন পরেই কোম্পানি নানা অজুহাত দাঁড় করায়। সিস্টেম ডেভেলপমেন্ট, পলিসি মেকিং বা নতুন কয়েন ছাড়ার দোহাই দিয়ে একসময় পেমেন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়। ততদিনে আনোয়ার ও তার দালাল চক্রের হাতে বিনিয়োগকারীদের কোটি কোটি টাকা চলে যায়। জানা গেছে, এখন পর্যন্ত প্রায় ১০০ কোটি টাকা বা তারও বেশি অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের মধ্যে অনেক অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তাও রয়েছেন। অনেকে লোকলজ্জার ভয়ে মুখ খুলতে না পারলেও কেউ কেউ থানায় অভিযোগ করেছেন। আনোয়ার হোসেনের এই প্রতারণায় কমিশনের ভিত্তিতে কাজ করছে একটি দালাল চক্র। তারা 'প্রয়োজন গ্লোবাল লিমিটেড' অফিসে নিয়মিত খাবারের আয়োজন করে ভুক্তভোগীদের ডেকে আনে এবং এমএলএম বা ক্রিপ্টোকারেন্সির মায়াজালে আবদ্ধ করে।
আইনি জটিলতা ও রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপের দাবি:
বাংলাদেশে ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবসা আইনত নিষিদ্ধ। কিন্তু আনোয়ার হোসেন নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই এবং বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই এই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি হাতিয়ে নেওয়া টাকা ডলার হিসেবে পাচারের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগীরা জানান, প্রতারক আনোয়ারের মতো ব্যক্তিদের দৌরাত্ম্য রুখতে এখনই রাষ্ট্রকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। সাধারণ মানুষ যাতে এভাবে বারবার প্রতারিত না হয়, সেজন্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বৃদ্ধির জোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। মিরপুরের মতো এলাকায় এভাবে নিয়মিত প্রতারণার অফিস চলতে থাকায় স্থানীয় নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী।
Leave a Reply
Your email address will not be published. Required fields are marked *







